বরিশাল নগরীর ১০নং ওয়ার্ডে জেলা পরিষদের মার্কেটের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের কার্যালয়ে যুবক বেল্লালের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত ফাঁদ—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসী থেকে শুরু করে তদন্তসংশ্লিষ্টদের মধ্যেও ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত (দিন/তারিখ) রাতে রিপন রানার পরিচালিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের অফিসে বেল্লালকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় রিপন রানা ও তার সহযোগীদের আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই অফিসের ভেতরে থাকা কিছু নথি ও ইলেকট্রনিকস সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। যা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
অফিসের পাশের দোকানদার শাহিন বলেন, হঠাৎ ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমরা এগিয়ে যাই। পরে দেখি এক যুবককে দ্রুত বাইরে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর অফিসের লোকজন বেশ উত্তেজিত ছিল।
আরেকজন পথচারী নাসির জানান, ঘটনার আগে-বরে কিছু অস্বাভাবিক দেখা গেছে। বিষয়টি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়নি। গভীরভাবে তদন্ত দরকার।
বেল্লালের পরিবার দাবি করেছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। তাদের বক্তব্য, আমাদের ছেলেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। হঠাৎ এভাবে মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
পরিবার আরও জানায়, বেল্লালের মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত কিছু জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা রহস্য আরও বাড়িয়েছে।
রিপন রানার সহযোগীরা দাবি করেছেন, বেল্লাল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যান এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। তারা বলেছেন,
“এটি সম্পূর্ণ দুঃখজনক দুর্ঘটনা। আমরা মিথ্যা অভিযোগের শিকার হচ্ছি।”
তবে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল ও আলামত বিশ্লেষণে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা তারা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। তবে ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও লোককে আটক করা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ যাচাই করে দেখা হচ্ছে মৃত্যুর আগের সময়টিতে কী ঘটেছিল।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, রিপন রানার অফিসে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা ধরনের অসামাজিক কাজের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বেল্লালের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের আরও আতঙ্কিত করেছে। সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
আইন-অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি মৃত্যুর আগে শারীরিক আঘাত, জোরজবরদস্তি বা পরিকল্পিত কিছু পাওয়া যায়, তবে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু প্রমাণের ওপরই সব নির্ভর করছে।
সবশেষে বলা যায়—বেল্লালের মৃত্যু এখনও রহস্যাবৃত। পরিবার, স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবার অবস্থান ভিন্ন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজ এই রহস্যের সমাধান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।