চাকুরি হারানোর শোক, অনিশ্চয়তার ভয় আর পরিবার-পরিজনের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার প্রশ্নে দিশেহারা শতাধিক শ্রমিক–কর্মচারী আজ রাস্তায় নেমেছেন। বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের ব্যস্ততম হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সিএন্ডবি রোড অবরোধ করে অবস্থান নেন অপসোস্যালাই (ওএসএল) ফার্মা লিমিটেডের স্টেরিপ্যাক বিভাগের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

শ্রমিকদের চোখেমুখে ছিল ক্ষোভ, কষ্ট আর অনিশ্চয়তার গভীর ছাপ। তাদের দাবি—
“আমরা ভিক্ষা চাই না, কাজ চাই। পরিবার নিয়ে বাঁচার অধিকার চাই।”

শ্রমিকরা জানায়, গত ২৮ অক্টোবর ডাকযোগে হঠাৎ করেই তাদের চাকুরি অবসানের নোটিশ পাঠানো হয়। বছর বছর ধরে কোম্পানিতে শ্রম, ঘাম আর পরিশ্রম দিয়ে যে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়েছিলেন—সেই প্রতিষ্ঠানই হঠাৎ এক দিনে তাদের জীবিকা কেড়ে নিল। নোটিশ হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন, কিন্তু মালিক পক্ষের কাছ থেকে কোনো আশার বার্তা পাননি।
এক শ্রমিক কণ্ঠ কাঁপিয়ে বলছিলেন,
“আমরা এই কোম্পানিতেই জীবন গড়েছি। এখন হঠাৎ করে চাকুরি চলে গেলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব? সন্তানের মুখে কী খাবার তুলে দেব?”
একজন নারী শ্রমিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“দিন-রাত কাজ করে কোম্পানিটা চলতেছিল। আজ আমরা রাস্তায়। মালিক পক্ষ একবারও খোঁজ নিল না—এটাই সবচেয়ে কষ্টের।”
অবরোধের কারণে সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও শ্রমিকদের শান্ত করতে পারেনি।
অপরদিকে, অপসোস্যালাই (ওএসএল) ফার্মা লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানায়, কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণগুলোর জন্য স্টেরিপ্যাক বিভাগের উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবসান দেওয়া হয়েছে, তাদের সব ধরনের চূড়ান্ত পাওনা আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে প্রদান করা হবে বলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
আরও জানানো হয়—
যদি ভবিষ্যতে বিভাগটি পুনরায় চালু করা হয়, তাহলে অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাধান্য ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে।
তবে শ্রমিকদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে “চাকুরি ফিরিয়ে দেওয়া”—শুধু পাওনা নয়।
তাদের কথায়:
“পাওনা দিয়ে একদিন চলবে, কিন্তু এরপর কী? আমাদের বেঁচে থাকার পথটা কোথায়?”
দীর্ঘদিন ধরে শ্রমের বিনিময়ে যে প্রতিষ্ঠানটিকে তারা দাঁড় করিয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের দরজায় আজ তারা দাঁড়িয়ে আছেন বেদনায় ভর করে—
চাকুরি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে।