কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবোঝাই এনা পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে উল্টে গেছে। মুহূর্তেই আনন্দমুখর যাত্রা পরিণত হয় আর্তনাদ আর আহাজারিতে। বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া কাঠের পোল এলাকায় এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুয়াকাটা থেকে যাত্রী বোঝাই বাসটি ঢাকার পথে ছুটে যাচ্ছিল। হঠাৎ বোয়ালিয়া এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়লে মুহূর্তেই উল্টে যায়। বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখেন, খাদে পড়ে আছে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাস, আর ভেতর থেকে ভেসে আসছে আহত যাত্রীদের বুকফাটা কান্না ও সাহায্যের আকুতি।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। অকুতোভয় উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ভেতর থেকে একে একে আহত যাত্রীদের বের করে আনেন। আহতদের মধ্যে নারী-শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও রয়েছেন। দ্রুত তাঁদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান,“খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। আটকে পড়ে দূরপাল্লার বহু বাস ও যানবাহন। ফলে কিছু সময়ের জন্য সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জনভোগান্তি বাড়তে থাকে, তবুও মানুষের চোখে ছিল দুর্ঘটনায় আহতদের নিয়ে উৎকণ্ঠা আর দুশ্চিন্তা।
ভোরের আলোয় যে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বপ্ন আর পরিকল্পনা নিয়ে, মাত্র কয়েক মুহূর্তে তা রূপ নেয় আতঙ্ক, যন্ত্রণা আর অসহায়ত্বের দৃশ্যে। অনেকেই বেঁচে ফিরেছেন মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে, আবার কারো শরীরে লেগেছে জীবনের স্থায়ী ক্ষতের দাগ।
সড়কে গতির উন্মাদনা নয়, প্রয়োজন জীবন বাঁচানোর সতর্কতা। প্রতিটি যাত্রাই নিরাপদ হোক — এটাই সবার দাবি, সবার প্রত্যাশা।