স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল
বরিশালে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মেলা আসলাম ওরফে ‘সন্ত্রাসী আসলাম’। ২২ দিন কারাভোগের পর শর্তসাপেক্ষে জামিনে বের হয়েই সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলামকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলাম ‘তালাশ বিডি’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। তাঁর অভিযোগ, **৭ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৩টা ৪১ মিনিটের দিকে বান্দ রোডের হোটেল চারু আবাসিকের নিচতলার হলরুমে** মেলা আসলাম তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিয়ে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেন।
অভিযোগকারী সংবাদকর্মীর দাবি, হোটেল চারু আবাসিকের নিচতলার হলরুমে সংঘটিত ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তাঁর দাবি, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধারণ হয়ে থাকতে পারে, যা ঘটনার সময়, স্থান ও সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় মেলা আসলাম ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাকে মামলা তুলে নিতে বলেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন মাছুদুর রহমান আসলাম।
এ সময় তাঁর সন্তানের পড়াশোনা করা স্কুলের তথ্যও তাদের জানা রয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। সন্তানের কোনো ক্ষতি না চাইলে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ।
মাছুদুর রহমান আসলামের দাবি, আগের মামলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পর এবার জামিনে বের হয়ে একইভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
বিশেষ করে সন্তানের স্কুলের তথ্য উল্লেখ করে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে উদ্বিগ্ন করেছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মেলা আসলাম। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ২২ দিন কারাভোগের পর আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন।
জামিনে মুক্তির পর সাংবাদিককে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হত্যার হুমকি এবং তাঁর সন্তানের স্কুলের তথ্য উল্লেখ করার অভিযোগে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হলে তিনি থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অথবা লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে মেলা আসলাম বা তাঁর পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।