প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে একাধিক প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনার এক প্রবাসী নারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম নুপুর আক্তার ওরফে সীমা আক্তার। তিনি বরগুনার আমতলী উপজেলার ৪নং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সোনাখালি গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ওমানে অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন নামে আইডি ব্যবহার করে নুপুর আক্তার বিভিন্ন প্রবাসী যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে বিয়ের আশ্বাস ও আবেগের সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিতেন।
প্রতারণার শিকার গাজীপুরের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী ইকবাল হোসেন জানান, প্রায় তিন বছর আগে অনলাইনে সীমা আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। সেই সুযোগে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইকবাল হোসেনের দাবি, অভিযুক্তের মা সুফিয়া বেগম ও ভাই সবুজও পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টেও টাকা পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এমনকি অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা তার গাজীপুরের বাড়িতেও বেড়াতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই নুপুর আক্তার তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, একই কৌশলে আরও কয়েকজন প্রবাসীর কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন, দুবাই প্রবাসী ইকবাল হোসেন, সোহান, কাউসার, মনির হোসেন ওরফে ইমরান এবং ওমান প্রবাসী শান্ত।
অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রবাসীদের টার্গেট করা হতো। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
ইকবাল হোসেন জানান, তিনি গাজীপুর ও বরগুনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তার ভাষায়, “ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এই ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়, সেজন্য জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুপুর আক্তার কিংবা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।