নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
বরিশাল নগরীতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন রুপাতলী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আটক হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পরপরই বরিশাল মেরিন একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫ একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সুরুজ মোল্লার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, জমি কেনাবেচায় দালালি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি এবং বায়না দলিলের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের জামিন প্রক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
জানা গেছে, রুপাতলী হাউজিং এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন সুরুজ মোল্লা। তার সম্পদের উৎস নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি তার বাসভবনে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগও রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল মেরিন একাডেমি এলাকায় জমি ক্রয়ের পরও তা বুঝে না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দলিল সম্পন্ন হওয়ার পরও জমি দখল করে রাখা এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা পূর্বে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন।
এছাড়া জমি বা অর্থ ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব ও ক্ষমতার জোরে তিনি চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
পরিবারিকভাবেও তার বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কর্ণকাঠি, চরকাউয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের জমি দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে সচেতন মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকার পুলিশ বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার সহায়তায় সুরুজ মোল্লাকে আটক করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পর তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং পুনরায় বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় আসেন।