এইচ এম সোহেল, বিশেষ প্রতিবেদক
বরিশাল অঞ্চলে ঝাটকা ইলিশ নিধন বন্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মিলছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন নদ-নদীতে ঝাটকা ইলিশ ধরা ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর অভিযান পরিচালনায় দেখা যাচ্ছে রহস্যজনক অনীহা।
বিশেষ করে কীর্তনখোলা, সন্ধ্যা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে ঝাটকা ধরার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জেলেরা ছোট জালের মাধ্যমে অবাধে ঝাটকা আহরণ করলেও অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের নজরদারি চোখে পড়ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, “মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও তা নিয়মিত নয় এবং বেশিরভাগ সময়ই তা লোক দেখানো বলেই মনে হয়।”
এদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, তারা নিয়মিতই তথ্য পেয়ে থাকেন কোথায় কোথায় ঝাটকা নিধন চলছে। তবে জনবল সংকট, যানবাহনের অভাব এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সব তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয় না বলে দাবি তাদের।
তবে সংশ্লিষ্টদের এই বক্তব্য মানতে নারাজ সচেতন মহল। তাদের মতে, “যদি তথ্য থাকে, তাহলে অভিযান না চালানোর কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এটি অবহেলা না কি অন্য কোনো কারণে হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”
পরিবেশবিদরা বলছেন, ঝাটকা ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকলে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে জেলেদের প্রণোদনা দিলেও মাঠপর্যায়ে এর সুফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শেষ কথা:
ঝাটকা রক্ষায় কঠোর আইন থাকলেও প্রয়োগে গাফিলতি থাকলে তা কখনোই সফল হবে না—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায়।