রিপোর্ট ; জামাল কাড়াল
পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে রুপাতলী মাছ বাজারে মাছের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই, ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, বোয়াল ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ থেকে ১২ টাকা ও ইলিশ জাটকা মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে, প্রায় সব মাছের দামই বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, নদী ও ঘের থেকে সরবরাহ কম আসছে, পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও দাম বেশি। তবে একাধিক ক্রেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রমজানের সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।পাইকারি ও খুচরা দামের পার্থক্য
তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি। এতে প্রশ্ন উঠছে—সরবরাহ সংকটই কি একমাত্র কারণ, নাকি মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি রয়েছে?
স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোক্তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং ও মূল্য তালিকা টাঙানোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়। তবে কার্যকর নজরদারি থাকলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
রমজানে মাছ কিনতে হিমশিম, স্বল্প আয়ের পরিবারের দীর্ঘশ্বাস
রমজান মাসে ইফতার ও সেহরিতে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন করতে চান সবাই। কিন্তু রুপাতলী মাছ বাজারের বাড়তি দামে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
রিকশাচালক আব্দুল করিম (ছদ্মনাম) জানান,আগে ৫০০ টাকায় দুই কেজি মাছ নিতে পারতাম। এখন এক কেজি কিনতেই কষ্ট হচ্ছে।
এক গৃহিণী মাহামুদা বেগম বলেন, “বাচ্চাদের জন্য মাছ কিনতেই বাজেট ভেঙে যাচ্ছে। রমজানে একটু ভালো খাওয়াবো ভেবেছিলাম, কিন্তু দাম শুনে হতাশ।
বিক্রেতারাও বলছেন, তারাও উচ্চ দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, বাজারে সঠিক তদারকি না থাকায় তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রমজান মাস হলেও, বাজারের ঊর্ধ্বমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।