স্টাফ রিপোর্টার :
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) এক কর্মকর্তাকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। তবে গুরুতর এই অভিযোগে গ্রেফতার ও কারাভোগের পরও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে।
গ্রেফতারকৃত শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪০) বর্তমানে বিসিসির কর ধার্য শাখায় অ্যাসেসর পদে কর্মরত। এর আগে তিনি সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানাধীন চৌমাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-৪-এ প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দুই সন্তানের জননী। অভিযুক্ত উজ্জ্বল ভুক্তভোগীর স্বামীর বন্ধু হওয়ায় তাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেই সূত্রে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বাড়ে এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন উজ্জ্বল। সর্বশেষ গত ৩০ জানুয়ারি গভীর রাতে কাউনিয়া থানাধীন বিসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় তাকে ধর্ষণ করে এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে।
পরে বিয়ের কথা বললে তা অস্বীকার করে উল্টো ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কাউনিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধীনে দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এই যুক্তিতে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়।
যদিও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বিসিসির এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বেও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, ফৌজদারি মামলার আসামি হয়ে গ্রেফতার ও কারাভোগের পরও তাকে এখন পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। অথচ চাকরির বিধি অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম রয়েছে।
এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা অতীতে চাকরিচ্যুত হলেও মেয়াদের শেষ দিকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি জানান, সাময়িক বরখাস্তের জন্য তখন কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছিল। তবে তখন সই স্বাক্ষর হয়নি বিধায় এর মধ্যে কর ধার্য শাখার এ্যাসেসর শহিদুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ায় তাই তার চাকরিতে আর কোন বাধা নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।