স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মিয়া। একের পর এক গুরুতর অভিযোগের মাঝেই এবার তার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পেয়ারপুর এলাকায় নিজ বাসায় পরিবারের সদস্যরা অনুপস্থিত থাকার সুযোগে গৃহকর্মী সাথী (১৮)-কে কুপ্রস্তাব দেন কুদ্দুস মিয়া। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কুদ্দুস মিয়ার পারিবারিক অবস্থাও বেশ বিচ্ছিন্ন। তার প্রথম স্ত্রী ঢাকায় মেয়ের বাসায় এবং দ্বিতীয় স্ত্রী বরিশাল শহরে ছেলের বাসায় বসবাস করছেন। তিনি বর্তমানে আরেক ছেলে শৈশব ও পুত্রবধূকে নিয়ে পেয়ারপুরে অবস্থান করছেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, কুদ্দুস মিয়া চাঁদাবাজি, প্রতারণা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, লুটপাটসহ অন্তত ১৫টি মামলার আসামি। দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধে জড়িয়ে থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট তাকে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও, স্থানীয়দের দাবি— এখনো ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই।
অভিযোগ রয়েছে, তার ছেলে সাইদুল ইসলাম রনি অবৈধভাবে সরকারি জমির মাটি কেটে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং এ সংক্রান্ত মামলায় জেলও খেটেছেন। অপর ছেলে মেহেদী হাসান শৈশবের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ।
এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে পেয়ারপুরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ২০২৫ সালে ইটভাটায় হামলা ও লাখ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগও রয়েছে কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কুদ্দুস মিয়া ও তার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলা রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কুদ্দুস মিয়া এলাকায় এক ধরনের ‘অঘোষিত শাসন’ কায়েম করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী— কেউই নিরাপদ নন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, “কুদ্দুস মিয়া একাধিক মামলার আসামি। বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি— দ্রুত সময়ের মধ্যে কুদ্দুস মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।