1. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
  2. adminaminalamin@gmail.com : বরিশাল মুখপত্র : বরিশাল মুখপত্র
১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| শীতকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ১১:০০|
শিরোনামঃ
শয্যাপাশে সন্তানের মৃত্যুর প্রহর গুণছেন অসহায় মা ; মাত্র তিন লাখ টাকার অভাবে হচ্ছে না মস্তিস্কের টিউমার অপারেশন বাকেরগঞ্জের রঘুনাথপুরে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি নগদ অর্থ ও ৩০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার লুট বরিশাল-৪ আসনের এমপি প্রার্থী কে এই মাওলানা আব্দুল জব্বার ? বরিশাল মহানগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্য জুয়ার রমরমা ; প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া ‘জল্লাদ লিটন’, বিপর্যস্ত এলাকাবাসী বাবুগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বরিশালে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দক্ষিণ যুবদলের দোয়া ও মোনাজাত বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী গ্রেফতার বরিশালে দুস্থ ছিন্নমুল অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতারণ বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ: ইতিহাস, স্থাপত্য ও গৌরবের অনন্য নিদর্শন মেহেন্দিগঞ্জে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন শতাধিক নেতাকর্মী

বরিশাল মহানগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্য জুয়ার রমরমা ; প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া ‘জল্লাদ লিটন’, বিপর্যস্ত এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক✍️
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়েছেন

রিপোর্ট ; নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল মহানগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। দিনের আলো নিভলেই অন্ধকার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অবৈধ জুয়ার আসরের হাহাকার, চিৎকার আর টাকার লেনদেনের শব্দ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘জল্লাদ লিটন’ নামে পরিচিত এক দুর্ধর্ষ ব্যক্তি প্রকাশ্যে বিএনপির নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই জুয়ার সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে। রাজনৈতিক দলের পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্ক।

এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু জুয়া নয়—এই চক্রের মাধ্যমে এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করলেও রহস্যজনক কারণে অল্পদিনের মধ্যেই সে আবার ফিরে আসে আগের মতোই আরও বেপরোয়া হয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জল্লাদ লিটন বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে।

কেউ মুখ খুলতে গেলে তাকে দলবিরোধী বা সরকারপন্থী আখ্যা দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি অনেক সময় বলা হয়, “আমাদের পেছনে বড় নেতারা আছে, আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।”
একজন প্রবীণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
এরা বিএনপির নাম ব্যবহার করে যা ইচ্ছা তাই করছে। অথচ প্রকৃত বিএনপি নেতাকর্মীরাও এতে লজ্জিত। এরা দলের ভাবমূর্তি ধ্বংস করছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই জুয়ার আসর বহুবার পুলিশের নজরে এলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান হয়, কিছু টাকা নিয়ে বা কয়েকজনকে সাময়িক আটক করে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। মূল হোতা জল্লাদ লিটন সব সময়ই অধরা থেকে যায়।

একজন যুবক বলেন,
“আমরা নিজের চোখে দেখেছি পুলিশ আসার আগেই লিটন খবর পেয়ে সটকে পড়ে। প্রশ্ন হলো—খবরটা দেয় কে?”
এই প্রশ্ন এখন পুরো ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশের ভেতরে কি কেউ এই চক্রকে রক্ষা করছে?
জুয়ার ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব
জুয়ার আসর শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, ধ্বংস করছে পুরো সমাজ কাঠামো। অনেক যুবক জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। সংসার ভাঙছে, স্ত্রী-সন্তানরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

একজন ভুক্তভোগী নারী বলেন,
“আমার স্বামী লিটনের জুয়ার আসরে গিয়ে সব টাকা হারিয়েছে। এখন সে মাদকাসক্ত। পরিবারটা শেষ হয়ে গেল। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেরাও এখন এই জুয়ার জালে আটকা পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও এই ঘটনায় বিব্রত। তাদের অভিযোগ, জল্লাদ লিটনের মতো অপরাধীরা দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপিকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে তুলে ধরছে, যা রাজনৈতিকভাবে ভয়াবহ ক্ষতিকর। একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, এই লোকের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সে বিএনপির নাম ব্যবহার করে জুয়া চালিয়ে দলকে কলঙ্কিত করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি—জল্লাদ লিটন ও তার পুরো চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হোক। শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা হোক।

তাদের ভাষায়, আজ যদি এই জুয়ার আসর বন্ধ না হয়, কাল পুরো বরিশালই অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই ঘটনায় শুধু লিটন নয়,তার পৃষ্ঠপোষকতা করা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করতে হবে। কারা তাকে বারবার ছাড়িয়ে দিচ্ছে? কারা তাকে তথ্য দিচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর না পেলে অপরাধ বন্ধ হবে না।

বরিশাল মহানগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আজ আইন ও নৈতিকতার চরম পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এক অপরাধী যেভাবে প্রকাশ্যে জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তা শুধু একটি এলাকার নয়—পুরো রাষ্ট্রের জন্যই অশনিসংকেত। এখনই যদি প্রশাসন কঠোর হাতে এই চক্র ভেঙে না দেয়, তবে সমাজের ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসী তাই আর প্রতিশ্রুতি নয়—চায় দৃশ্যমান, কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025 dailybarishalmukhopatro.com
EngineerBD-Jowfhowo