বরিশালে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে আঁখি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার দাবিতে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা মোসাম্মৎ মিনারা বেগম।
রবিবার (৩ মে ২০২৬) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ে আঁখি আক্তারের সাথে মোঃ তৌহিদুর রহমানের ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১১ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিনারা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একাধিকবার মারধরে গুরুতর আহত করা হয়, এমনকি এক পর্যায়ে তার হাত ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
তিনি আরও জানান, আসামিরা ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা নেওয়ার পর আবারও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাতে তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরদিন ১৯ এপ্রিল ভোরে পুলিশ তাদের ফোনে শ্বশুরবাড়িতে ডাকে। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, আঁখি আক্তারের মরদেহ ঘরের টয়লেটে অস্বাভাবিকভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। নিহতের গলায় কাপড় পেঁচানো, মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছিল এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল—যা দেখে এটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর স্বামী তৌহিদুর রহমান, তার বাবা নান্নু মীর ও মা তানিয়া আক্তার পলাতক রয়েছে। এমনকি তারা ১১ মাস বয়সী শিশুটিকেও সঙ্গে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
এছাড়া, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আলামত সংগ্রহেও বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন মিনারা বেগম। পরে বাধ্য হয়ে ২৭ এপ্রিল আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানাকে নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি দেশবাসী ও প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমি একজন অসহায় মা—আমার মেয়ের হত্যার সঠিক বিচার চাই।”