তফসিল ঘোষণার পরই জমে উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা। বাবুগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর দেহেরগতি ইউনিয়নের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডা—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, কে হচ্ছেন আগামী দিনের চেয়ারম্যান?
সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশের মধ্যেই তরুণ ও উদীয়মান সমাজসেবক মো. মাইনুল ইসলাম শিহাব মোল্লাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তার পক্ষে সমর্থকদের সরব উপস্থিতি ও প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শিহাব মোল্লার পরিবারের রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের ঐতিহ্য। তার দাদা মরহুম সুলতান আহম্মেদ মোল্লা দেহেরগতি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে অবদান রেখেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সরকারি আবুল কালাম কলেজ, জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তর রাকুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ নম্বর দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় পোস্ট অফিসের জন্য জমি দেওয়ার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
শিহাবের বাবা মরহুম নুর মোহাম্মদ মোল্লা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। বড় ভাই মরহুম মাহবুবুল হক গিয়াস মোল্লাও এলাকায় মানুষের পাশে থাকা একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
রাজনীতির মাঠেও শিহাবের রয়েছে পরিচিতি। সাবেক ছাত্রনেতা ও সমাজসেবক মাইনুল ইসলাম শিহাব মোল্লা বর্তমানে বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেহেরগতি ইউনিয়নে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে তার সমর্থকদের দাবি।
আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়া শিহাব মোল্লা বলছেন, চেয়ারম্যানের চেয়ার নয়, তিনি চান জনগণের সেবকের দায়িত্ব।
তার ঘোষিত অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে, টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক ও ডিজিটাল ইউনিয়ন গঠন, মাদকমুক্ত সমাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠন।
শিহাব মোল্লার ভাষ্য, দল-মত নির্বিশেষে দেহেরগতি ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
তফসিল ঘোষণার পর দেহেরগতিতে নির্বাচনী আলোচনা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। তবে শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে জনসমর্থনের পাল্লা ভারী হবে, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের সিদ্ধান্ত।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, “তরুণ নেতৃত্ব, পারিবারিক পরিচিতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে শিহাবকে নিয়ে আলোচনা বেশি।” আবার অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরাও নিজেদের অবস্থান শক্ত বলে দাবি করছেন।
ফলে দেহেরগতি ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠে এখন থেকেই তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তাপ। চায়ের আড্ডার আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।