বরিশালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে সংঘটিত রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত হওয়া মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন।
জানা যায়, ওইদিন তৎকালীন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আব্দুল্লাহর অনুসারীদের সাথে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি সংঘর্ষে জিয়াউদ্দিন সিকদার গুরুত্বর আহত হন। সংঘর্ষে তার মাথা, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং তিনি মারাত্মক রক্তক্ষরণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়েন।
প্রথমে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তৎকালীন পরিস্থিতিতে তাকে চিকিৎসার পরিবর্তে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়, ফলে তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যাহত হয়।
আহতের স্বজনদের দাবি, ওই হামলায় তার ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় একটি হাড় ভেঙে যায়, যা তখন অন্যান্য গুরুত্বর আঘাতের কারণে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ফলে বর্তমানে তার ডান হাতে জটিলতা ও ব্যথা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১৬ এপ্রিল বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিজ্ঞ সার্জন ডা. জহিরুল হক মানিকসহ অন্যান্য চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষায় হাতে হাড় ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
চিকিৎসকরা জানান, যথাযথ চিকিৎসা না হলে স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে দ্রুত ঢাকায় বিশেষায়িত অর্থোপেডিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, তিনি অভিযোগ করেন যে, আহত হওয়া সত্ত্বেও তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, যা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে।
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার থেকে ঢাকার অর্থোপেডিক বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা৷