সৈয়দ নুর আহসান (গৌরনদী) বরিশাল প্রতিবেদক | ৪ মে, ২০২৬
নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বরিশালের গৌরনদীতে এক বিশেষ সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে জাতীয় মহিলা সংস্থা, গৌরনদী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৈঠকটি পৌরসভার তিখাসার হাওলাদার বাড়িতে হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থান পরিবর্তন করে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও গৌরনদী জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. ইব্রাহিম বলেন, “নারী নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজের জন্য অভিশাপ। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করে সব নির্মূল করা সম্ভব নয়; প্রতিটি এলাকা ও পরিবারে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির। তিনি বলেন, “সমাজ পরিবর্তনের জন্য দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও নারীর প্রতি সম্মানবোধ শেখাতে হবে। সামাজিক অসংগতি দূর করতে গণমাধ্যমও সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে।”
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভিন তাঁর বক্তব্যে নারী ক্ষমতায়ন ও বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ বা পাচার সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলে কালক্ষেপণ না করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
জাতীয় মহিলা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিভাষ কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন ও মো. লিটন খান। এছাড়াও সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা নারী ও শিশু সুরক্ষায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।