চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
সত্যের পথে অবিচল থাকাই কি তবে কাল হলো? কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং চিহ্নিত সদস্যরা। গতকাল শনিবার (৭ মার্চ, ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর মাইলের মাথা এলাকায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। রক্তাত্ব অবস্থায় বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক কাজে যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল চারদিক থেকে সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে ঘিরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। দৈনিক ‘আজকের নয়া বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং জাতীয় দৈনিক ‘সোনালী কণ্ঠ’র চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি এবং সিনিয়র সাংবাদিক মো. কায়সারের রক্তাক্ত জখম দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে।
ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি সাংবাদিক সমাজের! এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্থানীয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমাজ এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদক এস এম রুবেল জানান, “সাংবাদিকের কলম স্তব্ধ করতেই এই কাপুরুষোচিত হামলা। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘মাফিয়া ক্যাডার’ ও কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদারদের গ্রেফতার করা না হয়, তবে দেশজুড়ে লাগাতার মানববন্ধন ও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ ও জনমনে প্রশ্ন! ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী সাংবাদিক স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তবে সাধারণ জনগণ ও বুদ্ধিজীবীদের মনে একটাই প্রশ্ন— একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে সত্য সংবাদ পরিবেশন করার দায়ে যদি একজন কলম যোদ্ধা ও সম্পাদককে রক্তাক্ত হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?!
দ্রুত গ্রেফতারের দাবি ও দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ নিয়ে জরুরী সভায়! চিহ্নিত এই সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের আস্ফালন দমনে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিক কায়সারের ওপর এই হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করবে— এমনটাই প্রত্যাশা সাংবাদিক সমাজ ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের।