একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের সময় বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার–এর এক কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মো. রুহুল আমিন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান–সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল আলম খান পলাশের আবেদনের প্রেক্ষিতে মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জহির উদ্দিন এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান।
বাদী পলাশ অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি প্রার্থী সরোয়ারকে নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারে যেতে বাধা দেওয়া হয়। তিনি নিজে প্রার্থীর সার্বক্ষণিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ২৬ ডিসেম্বর সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন বাজারে লিফলেট বিতরণ শেষে বরিশাল নগরীতে সমাবেশে অংশ নিতে রওনা হলে তিন দিক থেকে স্পিডবোটে ধাওয়া করা হয়।
একপর্যায়ে বিশ্বাসের হাট এলাকায় পৌঁছালে নদীর ভেতর থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে চোখ বেঁধে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বন্দর থানায় নিয়ে তিনটি মামলায় আসামি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন বাদী। আদালত মামলাটি বন্দর থানা পুলিশকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তবে তদন্তে ঘটনাস্থল বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার আওতায় পড়ায় বন্দর থানা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রোববার আদালত কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন ‘স্বৈরশাসন’ বহাল থাকায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এতদিন মামলা করা সম্ভব হয়নি।
মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এখন সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।