তরুণ নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা, বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে প্রচারণায় এগিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জোর আলোচনা। বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশনগুলোর সম্ভাব্য নির্বাচন ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বরিশালের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় এখন অন্যতম নাম সাবেক প্রয়াত মেয়র আহসান হাবিব কামাল-এর পুত্র এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা কামরুল আহসান রুপন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, ব্যক্তিগত ইমেজ ও তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় প্রচারণার কারণে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
বরিশালের রাজনীতিতে আহসান হাবিব কামাল ছিলেন একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার ও নাগরিক সেবায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে তার সমর্থকরা দাবি করেন। তাঁর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা অনুভূত হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর ছেলে কামরুল আহসান রুপনের রাজনৈতিক উত্থান অনেকের কাছে স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছাত্রজীবনে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তৃণমূল ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়েই পরিচিতি অর্জন করেন। রাজনৈতিক সচেতনতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক ঐতিহ্য—এই তিনের সমন্বয়ে তিনি এখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অন্যতম আলোচিত নাম।
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে—কামরুল আহসান রুপনের প্রচারণা কার্যক্রম ইতোমধ্যে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ওয়ার্ডভিত্তিক মতবিনিময় সভা, তরুণদের সঙ্গে বৈঠক এবং পাড়া-মহল্লায় সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর বরিশাল একটি তরুণ, উদ্যমী ও আধুনিক চিন্তাধারার নেতৃত্ব পেতে পারে। শিক্ষিত ও প্রযুক্তিবান্ধব প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনেও তিনি সচেষ্ট বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রচারণা দৃশ্যমান, যেখানে উন্নয়ন ভাবনা, নাগরিক সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে নিয়মিত মতামত তুলে ধরা হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন একজন মেয়র চান যিনি সহজে নাগালের মধ্যে থাকবেন এবং নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান দেবেন। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ সমস্যা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট—এই বিষয়গুলো বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।
রুপনের সমর্থকরা দাবি করছেন, তার বাবা যেমন উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। তারা মনে করেন, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রাখছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, তবুও নগর রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন কামরুল আহসান রুপন। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে হলে এমন একজন প্রার্থী প্রয়োজন যিনি সংগঠনের ভেতরে গ্রহণযোগ্য এবং সাধারণ ভোটারদের কাছেও জনপ্রিয়।
দলীয় সূত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না থাকলেও তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে রুপন হতে পারেন একটি শক্তিশালী পছন্দ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সাধারণত ব্যক্তিগত ইমেজ, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। সেই বিবেচনায় কামরুল আহসান রুপন এখন আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচনী কৌশল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থানের ওপর।
তারা আরও বলেন, বরিশালের ভোটাররা অতীতে ব্যক্তিত্ব ও কাজের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে প্রচারণায় এগিয়ে থাকা মানেই জয় নিশ্চিত—এমনটি বলা যায় না। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে জনমত তৈরিতে রুপনের সক্রিয়তা তাকে আলোচনায় শীর্ষে রেখেছে।
যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন, তবে তাকে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে—
নগরীর দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত সমস্যা
জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার
কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা
আধুনিক ও স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন
এছাড়া দলীয় ঐক্য ধরে রাখা ও সকল ওয়ার্ডে সমন্বিত প্রচারণা চালানোও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ ইতোমধ্যে অনুভূত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের পুত্র ও তরুণ সমাজসেবক কামরুল আহসান রুপন নগর রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি তাকে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী সমীকরণই নির্ধারণ করবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আগামী নেতৃত্ব কে হবেন। এখন দেখার বিষয়—তরুণ নেতৃত্বের এই উত্থান কতটা বাস্তব সমর্থনে রূপ নেয় এবং বরিশালবাসী তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কাকে বেছে নেন।