রিপোর্ট আসাদুজ্জামান মুরাদ ;
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশালের জনসভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেন, “এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়।” আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের এই জনসভাকে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে বরিশাল নগরের নির্ধারিত জনসভাস্থলে লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জনসভায় বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য রাজপথে রয়েছে। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়, এটি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।” তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এবং সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, “বরিশালের মানুষ সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। আজকের এই জনসভা প্রমাণ করে, দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।” একই সঙ্গে তিনি দলের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।
জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বরিশাল নগরী ও আশপাশের উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হতে থাকেন। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, বরিশালের এই জনসভা আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের দাবি, জনসভায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর বরিশালে তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।