বিশেষ প্রতিবেদক
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ‘কিসমত শ্রীনগর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী ও নূরানী মাদ্রাসা’ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পাশাপাশি নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে—বিতর্কিত ও দখলকৃত জমি দেখিয়েই সরকারি এমপিওভুক্ত (MPO) হওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে জোর তদবির চালাচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির ব্যবহৃত জমির প্রায় অর্ধেক অংশ এখনো প্রকৃত মালিক আদম আলী গংয়ের কাছ থেকে আইনগতভাবে রেজিস্ট্রি বা দান নেওয়া হয়নি। অথচ জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গায়ের জোরে ওই জমিতে ভবন নির্মাণসহ শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী জমির মালিক আদম আলী গং অভিযোগ করে বলেন, আমরা কখনোই মাদ্রাসার মতো একটি ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দিতে অস্বীকৃতি জানাইনি। কিন্তু কোনো আলোচনা, সমঝোতা বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আমাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে। আজ পর্যন্ত আমরা জমি লিখে দেইনি, অথচ আমাদের জমি দেখিয়েই তারা এমপিও নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।”
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS) এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—ভূমির বৈধ মালিকানা নিশ্চিত না হলে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয়। সেখানে দখলকৃত ও বিতর্কিত জমি দেখিয়ে এমপিওভুক্তির চেষ্টা সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে জমি দখল মুক্ত করা এবং এমপিও প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোঃ ফরিদ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। নিয়মবহির্ভূত হলে এমপিওভুক্ত করা হবে না।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দখল ও অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও উৎসাহিত হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নামে অপকর্মের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।