নিজস্ব প্রতিবেদক
১মে,২০২৬ মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস উপলক্ষে নগরীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা করেছে বরিশাল জেলা মটরযান মেকানিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং ২০৩৯)। ২০১৩ সালে স্থাপিত এই সংগঠনটি বর্তমানে এক হাজার সদস্যের বিশাল এক পরিবারে পরিণত হয়েছে।
সকালে নগরীর রুপাতলীস্থ ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে সংগঠনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশাল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বরিশাল শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, দবদবিয়া, কালিজিরা, নথুল্লাবাদ, চৌমাথা, গড়িয়ার পার এবং পোর্ট রোড প্রদক্ষিণ করে। এরপর র্যালিটি বরিশাল মহানগর ও জেলা শ্রমিক দলের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে মিলিত হয়।র্যালিতে এক হাজারেরও বেশি মেকানিক শ্রমিক তাদের দাবি ও অধিকার সংবলিত ব্যানার এবং ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শ্রমিকদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।আলোচনা সভায় সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতা শ্রমিকদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
এসময় সভাপতি শহিদুল ইসলাম তার বক্তব্য বলেন আজকের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ১৮৮৬ সালের শিকাগো শহরের সেইসব বীর শ্রমিকদের, যারা আমাদের আট ঘণ্টা কাজের অধিকার আদায়ে জীবন দিয়েছিলেন। আমাদের মটরযান মেকানিক ইউনিয়নের প্রতিটি সদস্য আজ ঐক্যবদ্ধ। ২০১৩ সাল থেকে আমরা মেকানিক ভাইদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।
আমাদের এক হাজার সদস্যের এই পরিবার এখন অনেক শক্তিশালী। আমরা চাই মেকানিক ভাইদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হোক এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
আমরা শ্রমিক দলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে থাকব।
সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেনে তার বক্তব্যে বলেন মে দিবস মানেই শ্রমিকের বিজয়ের দিন। আজ আমরা রুপাতলী থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি প্রান্তে র্যালির মাধ্যমে আমাদের শক্তি ও সংহতি প্রদর্শন করেছি।
২০৩৯ রেজিস্ট্রেশন নম্বরধারী এই ইউনিয়ন সবসময় মেকানিক ভাইদের সুখে-দুখে পাশে আছে। বর্তমান দ্রব্য র্মূল্যের বাজারে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও জীবনমান উন্নয়নের দাবি আজ সময়ের দাবি। আমরা আজ টাউন হলে সকল শ্রমিক সংগঠনের সাথে মিলিত হয়ে শপথ নিয়েছি—শ্রমিকের ওপর কোনো জুলুম অন্যায় বা শোষণ মেনে নেওয়া হবে না।
আমাদের ঐক্যই আমাদের শক্তি। আলোচনা সভায় মেকানিক ইউনিয়নের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মেকানিকদের পেশাগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমা সুবিধা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। সভা শেষে শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।