সৈয়দ নুর আহসান, গৌরনদী (বরিশাল), ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬
গৌরনদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘ তিন বছর পর আবারও নিয়মিত এমবিবিএস চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এই সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীর মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।
উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন আটজন চিকিৎসক যোগদান করেন। এই নতুন জনবল নিয়োগের পরপরই মফস্বল এলাকার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে উপজেলার খঞ্জাপুর, নলচিড়া ও বাটাজোর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়মিত রোগী দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আগে টাকার অভাব বা যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেক দরিদ্র রোগী উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারতেন না। এখন বাড়ির কাছে বিনামূল্যে অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং সরকারি ওষুধ পাওয়ায় তাদের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে।
বাটাজোর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রিদওয়ানা জানান, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী এখানে সেবা নিতে আসছেন। অনেকেরই ধারণা ছিল না যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়মিত ডাক্তার বসেন; প্রচার বাড়লে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গত এক সপ্তাহ ধরে এই তিনটি কেন্দ্রে সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত নিয়মিত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুইশ রোগীকে সেবা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মূল উপজেলা হাসপাতালেও রোগীর অতিরিক্ত চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে।”
উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. তৌকির আহমেদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিশেষ উদ্যোগে এবং নতুন চিকিৎসক নিয়োগের ফলে গ্রামীণ জনপদে এই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।