সৈয়দ নুর আহসান (গৌরনদী)বরিশাল
গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী গ্রামের গৃহবধূ বিলকিস বেগমকে (৩২) হত্যার অভিযোগ তুলে ঘাতকদের বিচার দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কলেজগেটের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা, হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিহতের বাবা সাত্তার বেপারী, ভাই কবির বেপারী, সাইফুল বেপারী এবং স্থানীয় নুরু মুন্সীসহ অন্যান্যরা। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে বিলকিসের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার স্বামী মাইনুল গাজী। গত সোমবার রাতে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ শুরুতে মামলা নিতে গড়িমসি করায় তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। বক্তারা অবিলম্বে মাইনুল গাজীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্ত মাইনুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার বাবা আলতাফ গাজী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে বিলকিস গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন:”গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা। সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে উপজেলার উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি বাগান থেকে তিন সন্তানের জননী বিলকিস বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবার একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
