আসাদুজ্জামান মুরাদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভোটের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়ে কেউ যদি জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ভুলে যায়, তবে জনগণই তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, জনগণ আগামীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আসন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে।
রোববার (৮ মার্চ) পবিত্র ১৮ রমজান উপলক্ষে বরিশাল নগরীর একে স্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “রমজান মাসেই মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। কোরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য নয়, এটি বিশ্ব মানবতার পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কোরআনের নির্দেশনা ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যদি তাকওয়াবান ও সৎ মানুষদের নিয়োগ দেওয়া যায়, তাহলে সমাজে অন্যায়, অনিয়ম ও জুলুমের কোনো স্থান থাকবে না। “ওসি, ডিসি, এমপি, মন্ত্রী—সবাই যদি তাকওয়াবান হন, তাহলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “এবার সারাদেশে ইসলামের পক্ষে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষ ভোটও দিয়েছিল, কিন্তু সেই ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানের বক্তব্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ হাসান আতিক।
এ সময় বক্তব্য দেন বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দিন খান রাজী, বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার আব্দুল মান্নান, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার, মহানগর নায়েবে আমির প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি নেয়ামুল হাসান নাঈম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরুসহ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর বরিশাল জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।