সরকার কর্তৃক গঠিত পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বৈষম্যহীন নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরিশালে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী আদায় ঐক্য পরিষদ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আজ সোমবার বরিশাল খাদ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করেন। এ সময় খাদ্য বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, সরকার গঠিত পে কমিশন একটি বৈষম্যহীন ও বাস্তবসম্মত পে স্কেলের সুপারিশ করলেও এখনো তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। এতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত গেজেট প্রকাশ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর কোনো সামঞ্জস্য নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ যৌক্তিক দাবিগুলো বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।
এদিকে, গতকাল রবিবার একই দাবিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মচারীরাও অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এতে হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রমে আংশিক বিঘ্ন ঘটে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করলেও ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে পে কমিশনের সুপারিশকৃত বৈষম্যহীন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।


